বাঘায় মোবাইল ও নগদ টাকার জন্য খুন হয় স্কুল ছাত্র রাজিব

প্রতিনিধি, বাঘা (রাজশাহী) : রাজশাহীর বাঘায় মোবাইল ফোন ও নগদ টাকার জন্য খুন হয় স্কুল ছাত্র রাজিব (১৪)
বৃহস্পতিবার ( ১৪ জুলাই) আটক তিন জনকে থানায় এনে পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। অষ্টম শ্রেণির ছাত্র রাজিব হোসেন (১৪) খুন হওয়ার পর তাদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়।

তারা পুলিশকে জানায়,রাজিবের কাছে থাকা ২০ হাজার টাকা আর একটি দামি মোবাইল হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে রাজিবকে মারধরের পর গলায় রশি প্যাচিয়ে হত্যা করে পদ্মা নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে। নগদ টাকা ভাগাভাগি করে নিয়ে মোবাইল ফোনটি নারায়নপুর বাজার সংলগ্ন পুকুরে ফেলে দেয় তারা। মোবাইল উদ্ধারের চেষ্টা করছে পুলিশ। আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত ছিল চারজন। আইনগত বিধি নিষেধে তাদের নাম প্রকাশ করা গেলনা। তিনজনের মধ্যে একজন একই উপজেলার চকছাতারি গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে অপর দুই জনের একজন কলিগ্রাম এলাকার মাহবুব আলীর ছেলে ও আরেকজন জালাল আলীর ছেলে । তাদের সকলের বয়স ১৮ বছরের নীচে।

শুক্রবার (৮ জুলাই) সকালে উপজেলার কলিগ্রাম এলাকার পদ্মানদী থেকে রাজিবের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজের দুই দিন পর রাজিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গত বুধবার (৬ জুলাই) দুপুরের খাবার খেয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল রাজিব হোসেন। সে বাঘা উপজেলার চকছাতারী গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে। উপজেলা সদরে ইসলামী একাডেমী উচ্চ বিদ্যালয়,কারিগরি ও কৃষি কলেজে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র রাজিব হোসেন। কাজের সুবাদে ঢাকায় থাকেন মা-আফরোজা বেগম ও বাবা আব্দুর রাজ্জাক । রাজিব নিজের বাড়িতে নানির সাথে থাকতো।
পুলিশ জানায়,মরদেহ উদ্ধারের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয় লাশ।
চায়না খাতুন বলেন,রাজিবের অনুরোধে নিখোঁজের কয়েকদিন আগে রেডমি ১০ মোবাইল ফোন কিনে দেওয়া হয় তাকে। ফোন কিনে দেওয়ার পর থেকে বিকেলে বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়াতো রাজিব।

বাঘা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর গলায় আঘাতের চিহ্ন ও মুখের মধ্যে রশি ঢোকানো অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মৃত্যুর রহস্য উদঘটনে তৎপর ছিল পুলিশ। আইনের সহিত সংঘাতে জড়িত ৩ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানান ওসি।